Friday, 7 December 2012

শিকলে বেঁধে রাখা হয় এনামুলকে

শফিকুল আলম শাহীন,পূর্বধলা (নেত্রকোনা) : গত তিন বছর আগেও যে শিশুটি ছিল দূরন্ত দূর্বার। মা-বাবার স্নেহের বাধঁন। সেই এনামূল (১০) নামের  শিশুটির দূরন্তপনা আজ শিকলে বাধাঁ। ছাড়া পেলেই হারিয়ে যায়। প্রতিবেশিদের জিনিসপত্র নিয়ে আসে। বিদ্যালয়গামী সমবয়সী শিশুদের বইপত্র ছিড়ে ফেলে। মানুষকে অযথা গালমন্ধ করে এ নিয়ে প্রতিবেশিদের নানান কথা শুনতে হয় তার মা-বাবার। তাই গত তিন বছর ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন তাকে।
বাবা-মা চান সঠিক চিকিৎসা করিয়ে ছেলেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে তা পারছেননা। ফলে তাদের চোখের সামনে শিকলে বন্ধি জীবন কাটাচ্ছে স্নেহের সন্তান। নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের কাছিয়াকান্দা গ্রামে গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখাগেল এমনই চিত্র।
ওই গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেমের চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে এনামুল তৃতীয়। ছোট বেলায় এনামূল ছিল শান্ত স্বভাবের। তার বয়স যখন সাত আট বছর তখন থেকেই সে অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। বাড়ি থেকে প্রায়ই সে হারিয়ে যায়। তখন তাকে অনেক খুঁজাখুজি করে ফিরিয়ে আনতে হয়। প্রতিবেশিদের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে আসে। বিদ্যালয়গামী সমবয়সী শিশুদের বইপত্র ছিড়ে ফেলে। মানুষকে অযথা গালমন্ধ করে। অবশেষে তার আচরণে অতিষ্ট বাবা-মা বাধ্য হয়েই তার পায়ে শিকল পরিয়ে দেন। তখন থেকেই শিকলে বাঁধা পড়ে এনামুলের দূরন্তপনা।
আবুল কাশেম বলেন, চোখের সামনে সন্তানকে শিকলে বেঁধে রাখলেও মনের মধ্যে খুব কষ্ট হয়। দুই বছর আগে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওযা সম্ভব হয়নি।
তার মা রেজিয়া খাতুন বলেন, শিকলে বাঁধা থাকতে থাকতে সে আরও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। তার এ ধরণের আচরণের কারণে আমরা কোনো কাজে বাইরে বা কোথাও বেড়াতে যেতে পারিনা। সব সময় তার চিন্তায় অস্থির থাকতে হয়। তার বিশ্বাস সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা পেলে তার ছেলেকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে।
পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মসিহুর রহমান বলেন, চিকিৎসা ভাষায় এটিকে সাইকোসিস (চিত্ত উন্মাদ) রোগ বলা হয়। এ ধরণের রোগী ব্যক্তিত্ববোধ, মননশীলতা হারিয়ে যেনতেন আচরণ করে। এটি টিউমার, প্রচন্ড আঘাত বা ভয় থেকে হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে যথাযথ চিকিৎসা নিলে পুরোপুরি ভাল হয়।

পোষ্ট : বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১ : ৪৫  মিনিট ০৭ ডিসেম্বর ১২।